নেতাজি সম্পর্কে কুকথা : বিপাকে অনন্ত মহারাজ ! বঙ্গবিভূষণ কাড়ার পর দায়ের এফআইআর
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুমন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে অনন্তের বিরুদ্ধে। গত ৭ অগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
রিসাইটাল স্ফেরিকাল ডট ওআরজি ডিজিটাল ডেস্ক : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুমন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে অনন্তের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকি, নেতাজির বিরুদ্ধে আজ়াদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছিলেন অনন্ত। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হতেই পদক্ষেপ করে রাজ্য। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অনন্তকে বঙ্গবিভূষণ দিয়েছিল। এটি রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান। বৃহস্পতিবার নবান্ন বিবৃতি দিয়ে জানায়, সেই সম্মান প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
রাজ্য জানিয়েছিল, অনন্তের কিছু কার্যকলাপ বিশ্লেষণ ও বিবেচনা করে দেখা গিয়েছে, তাঁর কাছে বঙ্গবিভূষণ থাকা এই সম্মানের মর্যাদা ও প্রতিপত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এর পর রাতেই দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা । সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তায় তিনি জানান, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য অনিচ্ছাকৃত ছিল। তার জন্য কেউ মানসিক আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখিত। ১৭ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় অনন্ত বলেন, ‘‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিক ভাবে কোনও আঘাত পেয়ে থাকেন তার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।’’ ভিডিয়োর উপরে লেখা ছিল, ‘‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভিডিয়োবার্তা’’। তবে দুঃখপ্রকাশ করেও রেহাই মিলল না। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআআইআর করল। কোচবিহারের পুলিশ সুপার মণীশ জোশী জানিয়েছেন, গত ৭ অগস্ট কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা অনন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নেতাজি সংক্রান্ত মন্তব্যের জন্য ওই অভিযোগ হয়েছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করেছে।
অনন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ফরওয়ার্ড ব্লক সমর্থক গোপাল দে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ফরওয়ার্ড ব্লক করি। নেতাজির আদর্শ মেনে চলি। কোচবিহারে যিনি নিজেকে মহারাজ বলে পরিচয় দেন, সেই অন্তত মহারাজ নেতাজি সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। ভাবতেও অবাক লাগে! নেতাজি শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর নায়ক। এখনও তাঁকে নিয়ে গবেষণা চলছে। আমরা বাঙালি। উনি আমাদের সেই নেতাজিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস পেলেন কী করে? আদৌ কি পড়াশোনা করেছেন? বিজেপি কী করে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠাল? আমরা তাই অভিযোগ জানিয়েছি। ওঁর সাংসদপদ বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, নেতাজির বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই। আশা করব, অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং সাংসদপদ বাতিল করা হবে।’’
নেতাজিকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে কুমন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না, জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশে সাইবার সেল পদক্ষেপ করেছে। রাজ্য জুড়ে এই ধরনের পোস্ট চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, পোস্ট মুছে দিলেও পার পাওয়া যাবে না। অনন্তের বিরুদ্ধেও কি পদক্ষেপ করবে পুলিশ? শুভেন্দু সেই প্রশ্নের উত্তরে জানান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
নেতাজিকে অবমাননার অভিযোগে বৃহস্পতিবার কোচবিহার থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক জন উত্তম বর্মন পেশায় শিক্ষক। তিনি কৃতকর্মের জন্য তখনই দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু ধৃত বাকি দু’জন পিন্টু রায় এবং কৃষ্ণ কার্জি নিজেদের অবস্থানে অনড়। তাঁদের শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। দু’জনেই অনন্তের অনুগামী বলে পরিচিত। এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগে কোচবিহারে পাঁচ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
তথ্য ও ছবি : সংগৃহীত

